আজকাল সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব চাকরির আবেদনেই NID (জাতীয় পরিচয়পত্র) বাধ্যতামূলক। অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে অনেকেই একটা ভয়ঙ্কর সমস্যায় পড়েন – NID-এ যে জন্মতারিখ আছে আর এসএসসি সার্টিফিকেটে যে তারিখ, দুটো মিলছে না! এই একটা ছোট্ট গরমিলের জন্য পুরো আবেদন বাতিল হয়ে যায়, চাকরি হাতছাড়া হয়ে যায়। ২০২৫ সালেও এই সমস্যা এখনো অনেকের জন্য মাথাব্যথার কারণ। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই। এই লেখায় আমি আপনাকে ধাপে ধাপে বলবো কী করবেন, কোথায় যাবেন, কোন কাগজপত্র লাগবে আর সবচেয়ে বড় কথা – এটা ১০০% সমাধান করা যায়।
জন্মতারিখ মিল না হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণগুলো কী?
অনেকেরই এই প্রশ্ন থাকে। আসলে ২০০৮ সালের আগে যখন ভোটার তালিকা তৈরি হতো, তখন অনেক জায়গায় হাতে লেখা ফর্মে ভুল হয়ে গেছে। কারো ১৯৯৫ লেখা হয়েছে ১৯৮৫, কারো মাস-তারিখ উল্টে গেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এসএসসি রেজিস্ট্রেশনের সময় বয়স কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এখন NID আর শিক্ষাগত সার্টিফিকেটের মধ্যে গোলমাল হচ্ছে।
২০২৫ সালে এই সমস্যার আসল সমাধান কী?
নির্বাচন কমিশন (EC) এখন এটা খুব সহজ করে দিয়েছে। আপনি নিজেই অনলাইনে আবেদন করে জন্মতারিখ সংশোধন করাতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটা ১৫-৩০ দিনের মধ্যে হয়ে যায় (যদি কাগজপত্র ঠিক থাকে)।
ধাপে ধাপে সমাধান প্রক্রিয়া (২০২৫ আপডেট)
| ধাপ | কী করবেন | প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | কোথায় করবেন | সময় লাগবে |
|---|---|---|---|---|
| ১ | services.nidw.gov.bd এ যান → লগইন/রেজিস্টার করুন | NID নম্বর + জন্মতারিখ দিয়ে | ঘরে বসে অনলাইন | ৫ মিনিট |
| ২ | “তথ্য সংশোধন” অপশনে ক্লিক করুন → জন্মতারিখ সংশোধন নির্বাচন করুন | – | অনলাইন | ২ মিনিট |
| ৩ | সঠিক জন্মতারিখ দিন (যেটা এসএসসি সনদে আছে) | – | অনলাইন | – |
| ৪ | প্রমাণপত্র হিসেবে আপলোড করুন (যেকোনো একটা) | • এসএসসি/সমমানের মূল সার্টিফিকেট বা মার্কশিট<br>• জন্ম সনদ (অনলাইন জন্ম নিবন্ধন)<br>• পাসপোর্ট (যদি থাকে)<br>• টিকা কার্ড (শিশুকালীন) | অনলাইন (PDF/JPG) | ১০ মিনিট |
| ৫ | ফি জমা দিন (২০২৫ অনুযায়ী) | • প্রথমবার সংশোধন: ১১৫ টাকা<br>• দ্বিতীয়বার বা তার বেশি: ২৩০ টাকা | নগদ/রকেট/বিকাশ/কার্ড | তাৎক্ষণিক |
| ৬ | আবেদন সাবমিট করুন → ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করুন | – | অনলাইন | – |
| ৭ | স্থানীয় নির্বাচন অফিসে ভেরিফিকেশন (কিছু ক্ষেত্রে ডাকতে পারে) | মূল NID + প্রমাণপত্রের মূল কপি | উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস | ৭-১৫ দিন |
| ৮ | নতুন NID ডাউনলোড করুন (সংশোধিত জন্মতারিখসহ) | – | services.nidw.gov.bd থেকে | কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিক |
বিশেষ কিছু পরিস্থিতি ও সমাধান
| পরিস্থিতি | কী করবেন (২০২৫ নিয়ম) |
|---|---|
| এসএসসি সনদ হারিয়ে গেছে | অনলাইনে ডুপ্লিকেট মার্কশিট নিন → সেটা দিয়ে আবেদন করুন |
| জন্ম সনদও ভুল আছে | প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভায় জন্ম সনদ সংশোধন করুন → তারপর NID |
| বয়স ৫-১০ বছরের গরমিল | শুধু এসএসসি সনদই যথেষ্ট, EC (Election Commission) এখন মানছে |
| আবেদন রিজেক্ট হয়েছে | রিজেকশন কারণ দেখে আবার আবেদন করুন (ফি লাগবে না দ্বিতীয়বার) |
চাকরির আবেদনের সময় কী করবেন (জরুরি টিপস)
১. আবেদনের শেষ তারিখের কমপক্ষে ৪৫ দিন আগে NID সংশোধন শুরু করুন।
২. অনেক চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে “জন্মতারিখ এসএসসি সনদ অনুযায়ী গণ্য হবে” – এই ক্ষেত্রে আপনি পুরোনো NID দিয়েও আবেদন করতে পারবেন, কিন্তু পরে ভাইভাতে অরিজিনাল NID চাইলে সমস্যা হবে। তাই আগে থেকেই ঠিক করে নিন।
৩. বিএমইটি, প্রবাসী কল্যাণ, পাসপোর্ট – সব জায়গাতেই একই জন্মতারিখ চায়। একবার NID ঠিক হলে বাকি সব ঠিক হয়ে যায়।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা (অনেকের সাথে কাজ করেছি)
গত বছর আমার এক বন্ধু ৪৩ তম বিসিএসে আবেদন করতে গিয়ে দেখলো NID-এ জন্মতারিখ ১৯৯০, আর এসএসসি ১৯৯৫। মাত্র ২১ দিনে আমরা অনলাইনে আবেদন করে, উপজেলা অফিসে একবার গিয়ে কাগজ দেখিয়ে ঠিক করিয়েছি। এখন সে সরকারি চাকরি করছে। আপনারও হবে ইনশাআল্লাহ।
শেষ কথা
NID-এর জন্মতারিখ মিল না হলে ঘাবড়াবেন না। ২০২৫ সালে এটা আর কোনো বড় সমস্যা না। শুধু সঠিক প্রমাণপত্র নিয়ে অনলাইনে আবেদন করুন, আর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। এক মাসের মধ্যে আপনার NID ঠিক হয়ে যাবে, আর চাকরির পথে আর কোনো বাধা থাকবে না।
আপনার যদি এখনো কোনো প্রশ্ন থাকে – কমেন্টে জানান, আমি নিজে উত্তর দেবো।
More Job Application Tips